ব্রাজিল থেকে কফি আমদানিতে ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশটির আরোপিত এ শুল্কের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে সেপ্টেম্বরে কফির দাম ৪০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছিল, যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববাজারেও। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি ব্রাজিলের কৃষিপণ্যের ওপর আরোপিত ৪০ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছেন। এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কফির বড় দরপতন হয়েছে।
আইসিই এক্সচেঞ্জে গত শুক্রবার ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিতে অ্যারাবিকা কফির দাম ২ শতাংশ কমে পাউন্ডপ্রতি ৩ ডলার ৭০ সেন্টে নেমেছে। এদিন লেনদেনের এক পর্যায়ে পণ্যটির দর ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে দুই মাসের সর্বনিম্নে নেমে যায়।
সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিনে রোবাস্তা কফির দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে টনপ্রতি ৪ হাজার ৫০৬ ডলারে নেমে আসে। এদিন লেনদেনের এক পর্যায়ে দরপতনের হার ৮ শতাংশে উঠে যায়।
ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের মোট কফির চাহিদার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করে। শুল্ক প্রত্যাহারের কারণে ব্রাজিলীয় কফি যুক্তরাষ্ট্রের কমে আসা মজুদ দ্রুত পূরণ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
ইউরোপভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সামনের দিনগুলোয় কফির আরো দরপতন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে পাউন্ডপ্রতি দাম ৩ ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা কম।’
তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী অ্যারাবিকা কফির সরবরাহ বর্তমানে ঘাটতিতে রয়েছে। এছাড়া মজুদ কম। পাশাপাশি লা নিনা সৃষ্ট আবহাওয়া ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর ব্রাজিলীয় কফি বিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েছে।
মারসান্টা কফি ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্টিফেন হার্স্ট বলেন, ‘শুল্ক কমানোর ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে জার্মানিতে পাঠানোর পরিকল্পনায় থাকা একটি চালান যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
লন্ডনভিত্তিক এক কফি ব্রোকার বলেন, ‘প্রত্যাশার তুলনায় বাজারে কফির দাম বেশি কমেছে।’